শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

৩০ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা এর সাথে জড়িত

মসিয়ার রহমান কাজল, বেনাপোল : ভালোবাসা,বন্ধুত্ব, অনন্দ কিংবা কষ্ট সব কিছু লুকিয়ে থাকে ফুলের মধ্যে।আর কিছু দিন বাদেই ফেব্রুয়ারী মাস।অনেই এমাসকে ফুলের মাস বলে থাকে। এ মাসেই বসন্ত উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা ও মাতৃভাষা দিবস,অন্যসব মাসের তুলনায় এ মাসে বাংলাদেশে ফুলের চাহিদা থাকে অনেক বেশি।তিন দিবসকে সামনে রেখে ফুলের চাহিদা মিটাতে দিন রাত বাগানে কাজ করছেন যশোরের গদখালির ফুল চাষিরা।

যশোর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার ৭০ টি গ্রামের ৭০০শ' হেক্টর জমিতে ১১ জাতের ফুল চাষ করা হয়।এর মধ্য গোলাপ ফুলের চাষ হয় বেশী।

গদখালির বাজার সহ উইনিয়নের গ্রাম গঞ্জ থেকে ফুল বান্ডিল কওে চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে৭ ঝিকরগাছা পানিসাড়া, হাড়িয়া, পুটিয়াপাড়া, সৈয়দপাড়া, মাটিকুমড়া, বায়সা, কায়বা ও ফুলিয়া গ্রামের প্রতিটা মাঠে চিত্রই এমন।শত শত গাদা,গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা,কসমস, ডেইজ, জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা সহ বিভিন্ন প্রজাতের ফুলের চাষ হয়।

ফুলচাষি ইউনুছ আলী জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা ও এক বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছে।চারা রোপণ থেকে গাছে ফুল আসা পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।খরচ বাদে লাভ হবে দেড় লাখ টাকা বলে আশা করছেন তিনি। ফুলের পাইকারি বিক্রেতা আশিকুর রহমান জানান,গত ১৬ডিসেম্বর ইংরেজি নববষে ফুল ভালো বিক্রি হয়েছে। দাম ও ভালো পেয়েছি।তবে সামনের দিবস গুলোতে ফুলের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীর কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুজাফর বলেন দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই ফুলকে কেন্দ্র করে।

ঝিকরগাছা উপজেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুল চাষের সঙ্গে সম্পক্ত। বসন্ত বরন ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বাজার জমে উঠেছে। প্রতিদিন গদখালি বাজারে দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে চাহিদা থাকে বেশি তাই আমরা লাভের আশায় গেলাপের চাষ করি বেশি।

আসছে ১৩ ফেব্রুয়ারী বসন্ত বরন ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্বভালোবাসা দিবস২১ফেব্রুয়ারীভাষা দিবস ২৬ মার্চ স্বধীনতা দিবসে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা কমপক্ষে ১ কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছে।এর মধ্যে বিশ্বভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ফুল হাটে বেচা কেনা শুরু হয়েছে।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলার গদখালিতে এবার ৭০০ শ' হেক্টও জমিতে ফুল চাষের আওতায় আনা হয়েছে।এবার আবহাওয়া অনুকুলে তায় কৃষকরা উৎপাদন ভালো পাবে।প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ফুল কাট বাছাই ভেজানো বাধা সব কিছুই কৃষক সন্ধ্যার অগেই শেষ করেন।সকাল সন্ধ্যার পর জমে ওঠে গদখালির ফুলের বাজার। 

ব্যবসায়ীরা ফুল কিনে ফুল মার্কেট ঢাকা শাহাবাগে সরবরাহ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম খুলনা বরিশাল রাজশাহি সহ সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুল সরবরাহ করে আসছেন পাইকাররা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ